কেন শয়তান আজও মূসা নবীর কবর খুঁজে বেড়াচ্ছে ? | Mind Of Salman
প্রিয় বন্ধুরা কেন ইবলিস শয়তান আজও পর্যন্ত
হজরত মুসা আলাইহিস সালামের কবর খুঁজে বেড়াচ্ছে?
ইবলিস শয়তান যদি মুসা নবীর কবর খুঁজে পায় তাহলে কি হবে আর কেনই বা হজরত মুসা আলাইহিস সালামের কবর মোবারক মানুষের চোখের আড়ালে আছে আসসালামু আলাইকুম প্রিয় বন্ধুরা আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন প্রিয় বন্ধুরা ইসলামের ইতিহাসে হজরত মুসা আলাইহিস সালাম সকল নবী রাসুলদের মধ্যে একজন বিশিষ্ট নবী এবং আল্লাহর মনোনীত একজন বিশেষ পয়গম্বর ছিলেন হজরত মুসা আলাইহিস সালামের মহত্ত্বের কথা কোরআন
মাজিদে সবচেয়ে বেশিবার উল্লেখ করা হয়েছে কোরআন মাজিদের 30 পারার মধ্যে 28 পারাতেই মুসা আলাইহিস সালামের কথা বলা হয়েছে 36 টি সুরায় তার নাম 120 বার এসেছে নবী রাসুলদের মধ্যে হজরত মুসা আলাইহিস সালামকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মোজেজা আল্লাহতালা দিয়েছিলেন কুরআনে হজরত মুসা আলাইহিস সালামের ফজিলতপূর্ণ জীবন এবং তার ইসলাম প্রচারে অবদান অনেক শ্রদ্ধার সাথে বর্ণনা করা হয়েছে কিন্তু খ্রিস্টানদের ধর্মীয় কিতাব বাইবেলে কিছু আয়াতে হজরত মুসা আলাইহিস সালামের ব্যাপারে একেবারে ভিন্ন কথা উল্লেখ করা হয়েছে বাইবেলে হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের উম্মতের সামনে অন্য
সব নবীর উম্মতদেরকে কম নিয়ামত প্রাপ্ত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে বাইবেলে ভাগ্য নির্ধারণ সম্পর্কিত আয়াতে এই কথা উল্লেখ আছে যে হজরত মুসা আলাইহিস সালাম তার উম্মতদেরকে মিশর থেকে বের করে অনেক বড় ভুল করেছিলেন যে অপরাধের কারণে আল্লাহ তাআলা তাকে শাস্তি দিয়েছিলেন বাইবেল অনুযায়ী আল্লাহতালা হজরত মুসা আলাইহিস সালামকে ওই জায়গা দেখিয়েছিলেন যে জায়গা তার পূর্বের নবী রাসূলদেরও জায়গা ছিল যেখানে তাদের উম্মতেরা বিস্তৃত ছিল আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা আলাইহিস সালামকে ওই স্থান দূর থেকে দেখিয়েছিলেন এবং তাকে কখনো সেই স্থানে যেতে নিষেধ করেছিলেন ধারণা করা হয়
বাইতুল মুকাদ্দাসে মুসা আলাইহিস সালামের মৃত্যু হয় কিন্তু তার কবর কোথায় তা আজও জানা যায়নি খ্রিষ্টান মাযহাবের ইলমে কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে শয়তান হজরত মুসা আলাইহিস সালামের কবর এখনো খুঁজছে এটি আসলে বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টের কিতাব যা মূলত এই তথ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত সেখানে এটি বলা হয়েছে কিন্তু ফেরেশতা মিকাইল আলাইহিস সালাম হজরত মুসা আলাইহিস সালামের লাশকে নিয়ে ইবলিশের সাথে দ্বন্দ্ব করার সময় ইবলিশের বিরুদ্ধে নালিশ করার সাহসিকতা দেখায়নি কিন্তু এটা বলেছিল যে তোমার উপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক কিছু খ্রিস্টানদের মতে এই আয়াতকে কোনোভাবেই
অবহেলা করা যায় না অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এই আয়াতটি পর্যবেক্ষণ করা উচিত কারণ এই আয়াতেই আল্লাহতালা এবং ইবলিশের মধ্যে হজরত মুসা আলাইহিস সালামের কবরের অবস্থান নিয়ে এক বিস্ময়কর লড়াইয়ের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করা হয়েছে আর একদলের ভাবনা হচ্ছে এরকম যে ইবলিস হযরত মুসা আলাইহিস সালামের কবর এইজন্য তালাশ করছিল যাতে করে সে তার দেহ মোবারককে কবর থেকে উঠিয়ে তার লাশের সম্ভ্রম ছিনিয়ে নিয়ে বেইজ্জতি করতে পারে খ্রিস্টানরা এটাও মনে করে যে মুসা আলাইহিস সালাম অনেক বড় একটি পাপ করেছিলেন আর তা হচ্ছে তিনি বনী ইসরাইলদের উন্নত জীবনযাপন এবং উত্তম
প্রতিদানের আশা দেখিয়ে নিজের লাভের জন্য বনী ইসরাইল কমকে সেখান থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন আর এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তার থেকে তার সকল মোজেজা ফিরিয়ে নিয়েছিলেন এবং তার জীবন কেড়ে নিয়েছিলেন আর এটাও বিশ্বাস করে যে আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা আলাইহিস সালামের কবরকে গোপন করে রেখেছেন যাতে শয়তান কখনো তার কবরকে খুঁজে না পায় এবং সেখান থেকে তার লাশ উঠিয়ে বনী ইসরাইল কমকে মিথ্যা কথা বলে আবার পথভ্রষ্ট না করতে পারে আর এ কারণেই শয়তান আজও হজরত মুসা আলাইহিস সালামের লাশের সন্ধানে রয়েছে হজরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত শয়তান এভাবেই কোটি কোটি
মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে আর শয়তানের দেখানো রাস্তা অনুসরণ করে আজও কিছু মানুষ মৃত লাশের পূজা করে আল্লাহর সাথে শিরক করে এ কারণেই আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা আলাইহিস সালামের কবরের ঠিকানা এখনো পর্যন্ত গোপন রেখেছেন ইসলামের ইতিহাসে কোথাও হজরত মুসা আলাইহিস সালামের রওজা মোবারকের সঠিক অবস্থানের ঠিকানা এখনো পাওয়া যায় না কিন্তু কিছু কিছু কিতাব ও আয়াত রয়েছে যেখান থেকে মুসা আলাইহিস সালামের কবরে পাওয়া যায় যেমন বুখারী শরিফে বর্ণনা রয়েছে হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন মালাকুল মউতকে মুসা আলাইহিস সালামের রুহ কবজ করার জন্য পাঠানো হয়েছিল ফেরেশতা যখন তার কাছে এলেন তিনি তার চোখে চড় মারলেন তখন ফেরেশতা রবের কাছে গিয়ে বললেন আপনি আমাকে এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন যিনি মরতে চান না আল্লাহ বললেন তুমি তার কাছে ফিরে গিয়ে বলো সে যেন তার একটি হাত গরুর পিঠে রাখে তার হাত যতগুলো পশম ঢাকবে তার প্রতিটি পশমের বদলে তাকে একটি বছর করে আয়ু দেয়া হবে মুসা আলাইহিস সালাম বললেন হে রব তারপর কি হবে আল্লাহ বললেন তারপর মৃত্যু মুসা আলাইহিস সালাম বলেন তাহলে এখনই হোক তখন তিনি একটি পাথর নিক্ষেপ করলে যতদূর যায়
বাইতুল মাকদিসের ততটুকু নিকটবর্তী স্থান তাকে পৌঁছিয়ে দেয়ার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে নিবেদন করেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন আমি সেখানে থাকলে অবশ্যই পথের পাশে লাল বালুর ঢিলার কাছে তার কবর তোমাদেরকে দেখিয়ে দিতাম একটি বর্ণনা থেকে এটাও জানতে পারা যায় যে হজরত মুসা আলাইহিস সালাম তার শেষ সময় টিলা পর্বতের কাছে অবস্থান করেছিলেন এবং তিনি প্রার্থনা করেছিলেন যাতে তার মৃত্যু মুকাদ্দাসে দেওয়া হয় যেখানে তিনি হিজরত করে ফিরে আসছিলেন তিনি নিজের কওমদেরকে বলেছিলেন যাতে তাকে মৃত্যুর পরে বাইতুল মুকাদ্দাসে
সমাহিত করা হয় কিন্তু তকদির এরকমটা হতে দেয়নি সে একটি পাথর ছুড়ে মারলে যতদূর যায় তার থেকে বেশি দূরে আর যেতে পারেনি এজন্যই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে যদি আমি ওখানে থাকতাম তাহলে ওই পাহাড়ের নিচে তার কবর মোবারক দেখিয়ে দিতে পারতাম আরো একটি বর্ণনা হতে এটাও জানা যায় যে একদা হজরত মুসা আলাইহিস সালাম একটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি দেখলেন সেখানে একজন ফেরেশতা একটি সুন্দর কবর খুঁড়ছে তিনি এত সুন্দর কবর দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন হে ফেরেশতাগণ এটি কার কবর তখন ফেরেশতারা বলল এটি আল্লাহর একজন নেক
বান্দার কবর তুমি যদি চাও এই কবরটি তোমার হোক তাহলে তুমি এখানে শুয়ে পড়ো আর হজরত মুসা আলাইহিস সালাম ঠিক তাই করলেন এবং সেই কবরেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন এবং ফেরেশতাগণ তার জানাজা পড়িয়ে তাকে সমাহিত করলেন
